ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার চীনের ব্যাপক আকারে চীনের বিনিয়োগ আসবে, আশা প্রেস সচিবের নদী ও পানি ব্যবস্থাপনায় বেইজিংয়ের কাছে ‘মাস্টারপ্ল্যান’ চায় ঢাকা ঢাকা-বেইজিংয়ের মধ্যে ৯ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই ডাকাতি বৃদ্ধিতে উদ্বেগ নিরাপত্তা দাবি স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সুনামগঞ্জে বালু উত্তোলন নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ আহত ৬ নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান সংস্কারের কথা বলেও পরে কথা রাখেনি- নাহিদ ঈদে ফিরতি যাত্রায় ৮ এপ্রিলের টিকিট মিলবে আজ মিয়ানমারে দু’দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশও পানি সঙ্কটে উত্তরাঞ্চলের কৃষি বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরে সহায়তা করবে চীনা এক্সিম ব্যাংক ভারত থেকে কেনা হবে আরও ৫০ হাজার টন চাল ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে তিন স্তরের নিরাপত্তা ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ঈদের ছুটি দীর্ঘ হলেও অর্থনীতিতে স্থবিরতা আসবে না-অর্থ উপদেষ্টা মিয়ানমারে সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে রোহিঙ্গারা নাড়ির টানে ছুটছে মানুষ রাজধানীতে তীব্র যানজট
বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছে মানুষ

নকল ওষুধের উৎপাদন-বিপণন বন্ধ হচ্ছে না বাড়ছে উদ্বেগ

  • আপলোড সময় : ২৯-০৪-২০২৪ ১০:৪০:৩২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০৪-২০২৪ ১০:৪০:৩২ অপরাহ্ন
নকল ওষুধের উৎপাদন-বিপণন বন্ধ হচ্ছে না বাড়ছে উদ্বেগ নকল ওষুধের উৎপাদন-বিপণন
বাজারে এমনিতেই নকল পণ্যের ছড়াছড়ি দীর্ঘদিন ধরেএর মধ্যে ওষুধের মতো জীবন রক্ষাকারী পণ্যও নকল হচ্ছে দেশেজীবন-মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত এ পণ্যটিও যদি ভেজাল দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে দেশের নাগরিকের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েএসব নকল ওষুধের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ না হওয়ায় বাড়ছে উদ্বেগএসব ওষুধ সেবনে বিভিন্ন জটিল রোগে মানুষকে ভুগতে হচ্ছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা
রাজধানীর বিভিন্ন ফার্মেসিতে এসব ভেজাল ওষুধ পাওয়া যাচ্ছেপ্রতারকদের খপ্পরে পড়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মুনাফালোভী রোগীদের কাছে এসব নকল ওষুধ বিক্রি করছে দেদারএর আগেও বিভিন্ন সময় নকল ওষুধের খবর পাওয়া গেছেতবে কয়েকটি ঘটনা নতুন করে আলোচনায় আসায় নকল ওষুধ নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নকল ওষুধ যারা তৈরি করছে, তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবেপ্রয়োজনে আলাদা বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এদের বিচার নিশ্চিত করতে হবেনা হলে খারাপ ফল ভোগ করতে হবে মানুষকেসম্প্রতি রাজধানীর কিছু ফার্মেসিতে নকল ওষুধ রাখার তথ্য পেয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সংস্থাটি বলছে, বিভিন্ন নকল ওষুধ তৈরি করে বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে কয়েকটি চক্রএসব চক্রের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছেএ ছাড়া আরও যারা জড়িত, তাদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে ডিবি
রাজধানীর কোতোয়ালি ও কেরানীগঞ্জে গত ৭ এপ্রিল অভিযান চালিয়ে নকল ভ্যাকসিন ও ওষুধ তৈরি চক্রের চার জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় কয়েক লাখ নকল ওষুধ, যার আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি টাকারও বেশি
অভিযানের পর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, দেশের বাজারে প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা দামের কোরিয়ান এই ভ্যাকসিন কেরানীগঞ্জে তৈরি করতো একটি চক্রঅন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ওষুধটি মাত্র ১০ টাকার টিটেনাস দিয়ে নকল সিল বসিয়ে বাজারে বিক্রি করতো চক্রটিশুধু হেপাবিগ নয়, এই চক্রের হাতে তৈরি হতো ভিটামিন ডি-৩ অ্যাম্পুল ইনজেকশন, রেসোগাম পি, ক্লোপিকজল ডিপোর্ট, ফ্লুয়ানজল ডিপোর্ট, হেপাবিগ হেপাটাইটিস বি-সহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি নকল অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধমিটফোর্ড এলাকার ওষুধের মার্কেট থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ইনজেকশন তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিল তারাআর এসব ওষুধ ব্যবহারে সাধারণ মানুষের জীবনহানির মতো ঘটনা ঘটছে
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, চক্রটি টিটেনাস দিয়ে হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন বানাতো, ভিটামিন বি৩ বানাচ্ছিল অ্যাক্টুপিস সকেট দিয়ে এবং ক্লোপিকজল বানাচ্ছে ইন্ডিয়ান ড্রাইকিজাম অ্যাম্পুল দিয়েএই ওষুধগুলো নকল বানিয়ে বেশি লাভে বিক্রি করছে তারাটিটেনাস ১০ টাকা দিয়ে কিনে হেপাবিগ বানিয়ে ৪ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি, ক্লোপিকজল পাঁচ টাকা দিয়ে বানিয়ে ডেনমার্কের ওষুধ বলে বিক্রি করছে ৪৫০ টাকা করেঅন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রয়োগ করা হয় রোসোগাম পিএটা জেসন গ্রুপের একট্রোপিন ১০ টাকা দিয়ে কিনে রোসোগাম বানিয়ে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করতোএভাবে বিভিন্ন ওষুধ নকল করে বাজারে ছড়িয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আসছিল তারাএর আগে গত মার্চে বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নকল ওষুধ তৈরি করার সঙ্গে জড়িত আরেকটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সংস্থাটি
তারা বলছে, সন্তান জন্মের সময় প্রসূতি মায়েদের ব্যথা উপশমের জন্য ব্যবহার করা হয় জি-পেথিডিন নামের একটি ইনজেকশনঅত্যন্ত সংবেদনশীল এ ওষুধটি অস্ত্রোপচারের সময় বা অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করেনএমন গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ সাত থেকে আট বছর ধরে নকল করে বাজারজাত করে আসছিল চক্রটিপ্রচলিত জি-ডায়াজিপাম ঘুমের ইনজেকশনকে ঘরোয়াভাবে রূপান্তর করে চেতনানাশক জি-পেথিডিন হিসেবে চালানো হতোঅথচ জি-পেথিডিন তৈরির জন্য শুধু অনুমোদন রয়েছে দেশীয় একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের
গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, ‘জি-ডায়াজিপাম ঘুমের ইনজেকশনকে চেতনানাশক জি-পেথিডিন হিসেবে রূপান্তর করে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করে আসছিলতারাও মিটফোর্ড এলাকা থেকে প্রতিটি জি-ডায়াজিপাম আট টাকা দিয়ে সংগ্রহ করে আসছিলেনকেনার পর ইনজেকশন অ্যাম্পুলকে অ্যাসিড দিয়ে ভিজিয়ে রেখে সেটির ওপরে থাকা লেখা তুলে ফেলা হয়সেটিতে কাঠ ও প্লাস্টিক দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি স্কিন প্রিন্ট করার ফ্রেম দিয়ে জি-পেথিডিন ইনজেকশন নামকরণ করা হয়এই অ্যাম্পুল প্লাস্টিকের ট্রেতে পাঁচটি করে সাজিয়ে হাতে চালানো চাপ মেশিন দিয়ে জি-পেথিডিন ব্যথানাশক ফয়েল পেপার সংযুক্ত করা হয়পরে এসব নকল জি-পেথিডিন প্রতিটি ৬০০ টাকায় বাজারজাত করা হয়শুধু এসব ঘটনাই নয়, বিভিন্ন সময় নকল ওষুধ তৈরি করা ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়েও গ্রেফতার ও জরিমানা করতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেতবু কেন এসব নকল ওষুধের সরবরাহ থামানো যাচ্ছে না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে
এ ব্যাপারে গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) রাজিব আল মাসুদ বলেন, নকল ওষুধ তৈরি করে যারা বাজারে বিক্রি করছে, এদের একাধিক চক্রের কয়েকজনকে আমরা গ্রেফতার করেছিআর যারা এসব চক্রের সঙ্গে মিশে এই অপরাধে জড়াচ্ছে, তাদেরও খুঁজে বের করা হবেইতোমধ্যে এসব চক্রের সঙ্গে বারিধারা জেনারেল হাসপাতালের এক ফার্মাসিস্টের যুক্ত থাকার প্রমাণ পেয়েছিতাকে আটক করা হয়েছেতিনি বলেন, শুধু বারিধারার এই ফার্মেসিতে নয়, গোপনে আরও বিভিন্ন ফার্মেসিতে এসব নকল ওষুধ ছড়িয়ে দিচ্ছে চক্রগুলোএদের সঙ্গে আমরা যাদেরই সম্পৃক্ততা পাবো, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবো
এ প্রসঙ্গে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, নকল ওষুধের কার্যকারিতা না থাকায় সাধারণ মানুষ কোনও উপকার পেতো নাবরং নানাভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতোতারা এমনভাবে এসব ওষুধ হুবহু প্যাকেজ করতো, যাতে সাধারণ মানুষের চেনার উপায় নেই কোনটা আসল আর কোনটা নকলতারা এসব ওষুধ রাজধানীর মিটফোর্ড মেডিকেলের পাশের ওষুধের মার্কেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিলরাজধানীর অনেক হাসপাতালের নিচে থাকা বিভিন্ন ফার্মেসিতে এসব ওষুধ বিক্রি হয়তদন্ত করে যাদের নাম পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, নকল ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রি করে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, অর্থনৈতিকভাবেও এসব লোক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেনপ্রতারকদের খপ্পরে পড়ে যেসব ফার্মেসি ব্যবসায়ী এসব নকল ওষুধ রেখে বিক্রি করছে, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, মুনাফার লোভে আজ এসব ওষুধ অন্যদের খাওয়াচ্ছেন, এই ওষুধই আপনার সন্তান, মা-বাবা ও পরিবারের স্বজনরা যে সেবন করবে না, তার নিশ্চয়তা কী? নকল ওষুধ যারা তৈরি করছে, তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আলাদা বিচারিক ট্রাইব্যুনাল করে এদের বিচার নিশ্চিত করতে হবেতা না হলে তাদের কালো হাত ছড়িয়ে পড়বে দেশব্যাপীআর এর খারাপ ফল ভোগ করতে হবে সাধারণ মানুষকে
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ